করলা

Spread the love

করলা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সবজি। করলা একটি রুচিকর ও পুষ্টিকর সবজি। স্বাদে তিক্ত হলেও বাংলাদেশের সকলের নিকট এটি প্রিয় সবজি হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশে করলা গ্রীষ্মকালীন সবজি হলেও বর্তমানে করলা বার মাসই বাজারে পাওয়া যায়।

ইংরেজিতে করলাকে Balsam pear, alligator pear, bitter gourd, bitter melon, bitter cucumber ইত্যাদি বলা হয়। করলা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Momordica charantia যা Cucurbitaceae পরিবারভুক্ত এক প্রকার লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এছাড়া ওকিনাওয়ার আদি ভাষা থেকে উদ্ভূত ‘গয়া’ এবং সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত ‘কারাভেলা’ নাম দুটিও ইংরেজি ভাষায় প্রচলিত। করলার আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ, যা ১৪শ শতাব্দিতে চীনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

করলা চাষে মাটি নির্বাচন
আমাদের দেশে প্রায় সব ধরনের মাটিতে করলা চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থযুক্ত দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি করলা চাষের জন্য বেশি উপযোগী।

জাত
বারি করলা-১
জাতটিতে গাঢ় সবুজ রংয়ের ২৫-৩০ টি ফল ধরে (গাছ প্রতি)। প্রতি ফলের গড় ওজন ১০০ গ্রাম যা লম্বায় ১৭-২০ সেমি এবং ব্যাস ৪-৫ সেমি। চারা রোপণের ৫৫-৬০ দিনের মধ্যে প্রথম ফল তোলা যায়। উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টর প্রতি ফলন ২৫-৩০ টন পাওয়া যায়।

গজ করলা
জাতটিতে সবজ রংয়ের ১৫-২০ টি ফল ধরে (গাছ প্রতি)। প্রতি ফলের গড় ওজন ১৫০-২০০ গ্রাম যা লম্বায় ২৫-৩০ সেমি এবং ব্যাস ৬-৭ সেমি। হেক্টর প্রতি ফলন ২০-২৫ টন(১০০ ১২০ কেজি/শতাংশ) পাওয়া যায়।

করলা চাষে জমি প্রস্তুতকরণ
করলা চাষের জন্য জমি ৪-৫ টি চাষ ও মই দিয়ে উত্তম রূপে জমি প্রস্তুত করতে হবে। এবং জমিতে চাষের পর বড় বড় ঢিলা থাকলে তা ভেঙ্গে মাটি ঝুরঝুরে করতে হবে।

করলা চাষে মাদা তৈরী ও বীজের পরিমাণ
করলা চাষের জন্য জমিতে বেড বা মাদায় তৈরি করার ৫-৭ আগে জৈব সার মিশিয়ে দিতে হবে। করলার জন্য ১.৫ মিটার দূরে দূরে মাদা তৈরী করতে হবে। প্রতিটি মাদার সাইজ হবে লম্বা, চওড়া ও গভীরতায় কমপক্ষে ৩০ সেমি। সাধারণত প্রতি শতকে করলা চাষের জন্য ১৫ থেকে ২০ গ্রাম বীজ দরকার হয়।

করলা চাষে বীজ বপনের সময়
ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস।

করলার উপকারীতা
এলার্জি প্রতিরোধে এর রস দারুণ উপকারি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উত্তম। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করলার রস খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বাতের ব্যাথায় নিয়মিত করলা রস খেলে ব্যাথা আরোগ্য হয়। আর্য়ুবেদের মতে করলা কৃমিনাশক, কফনাশক ও পিত্তনাশক। করলার জীবানু নাশক ক্ষমতাও রয়েছে। এছাড়া জন্ডিস ও লিভারের অসুখে খাবারে অরুচি দেখা দিলে করলা খেলে রুচি আসে।

করলা পাতার রসের উপকারিতা
করলা পাতার রস খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এনার্জি ও স্টেমিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে। অতিরিক্ত এলকোহল খাওয়ার অভ্যাস থেকে লিভার ড্যামেজড হলে , সে সমস্যায় করলা পাতার রস দারুন কাজে দেয়। ব্লাড ডিজঅর্ডার সমস্যায় লেবুর রস ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

তথ্যসূত্র:
১) Tritten, Travis J. (মার্চ ৯, ২০১১)। “State Dept. official in Japan fired over alleged derogatory remarks”। Stars and Stripes। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১২।
২) “karela – WordReference.com Dictionary of English”। Wordreference.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৮-১৫।
৩) Bagchi, Indrani (১১ এপ্রিল ২০০৫)। “Food for thought: Green ‘karela’ for Red China”। Times of India।
৪) “Bitter Melon”। Memorial Sloan-Kettering Cancer Center। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৩।
৫) Wang, Limei; Waltenberger, Birgit; Pferschy-Wenzig, Eva-Maria; Blunder, Martina; Liu, Xin; Malainer, Clemens; Blazevic, Tina; Schwaiger, Stefan; Rollinger, Judith M.; Heiss, Elke H.; Schuster, Daniela; Kopp, Brigitte; Bauer, Rudolf; Stuppner, Hermann; Dirsch, Verena M.; Atanasov, Atanas G. (২০১৪)। “Natural product agonists of peroxisome proliferator-activated receptor gamma (PPARγ): a review”। Biochemical Pharmacology। 92 (1): 73–89। doi:10.1016/j.bcp.2014.07.018। PMID
৬) http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=62822
৭) www.pepeelika.com/article/428/করলার-চাষ-পদ্ধতি
৮) https://www.bd-pratidin.com/life/2017/11/21/282719

আপনার মতমত দিন

Spread the love

goECO

We are the first generation to be aware of environmental conservation and we are the last to protect it. lets protect and conserve the earth together.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *