মরিচ

Spread the love

মরিচ বা লংকা এক প্রকারের ফসল যা মসলা হিসাবে ঝাল স্বাদের জন্য রান্নায় ব্যবহার করা হয়। ক্যাপসিকাম (Capsicum) গণের সোলানেসি (Solaneceae)অন্তর্ভুক্ত। মরিচকে অর্থকরী ফসল বলা হয়। এর ইংরেজি নাম Chilli ও বৈজ্ঞানিক নাম Capsicun annuum. বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে মরিচের চাষ করা হয়। তবে চরাঞ্চালে মরিচের উৎপাদন বেশি হয়। আমাদের দেশের অনেক জায়গায় এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মরিচ চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

মরিচের আদি নিবাস আমেরিকা মহাদেশে। তবে বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্র রান্না ও ঔষধি হিসাবে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

প্রজাতি
মরিচের বহুল প্রচলিত প্রজাতি গুলো হলো-
Capsicum annuum
Capsicum frutescens
Capsicum chinense
Capsicum pubescens
Capsicum baccatum

ব্যবহারিক দিক থেকে মরিচকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ঝাল মরিচ ও ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম)।

ঝাল মরিচ : এশিয়া, চীন এবং মধ্য আফ্রিকার দেশসমূহে ঝাল মরিচ ও ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম)-এই দুই ধরণের মরিচ চাষ করা হয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন আকার এবং আকৃতির মরিচ চাষ করা হয়। মূলত কাঁচা মরিচ যা কম-বেশি ঝালযুক্ত তা রান্নায় ব্যবহার করা হয়। একইসাথে শুকনা মরিচ যা দেখতে লম্বাটে ধরণের তাও ব্যবহার করা হয়। শুকনা মরিচ গুঁড়ো অথবা শিল-পাটায় বেটে রান্না করা হয়। মরিচের সস ব্যাপকহারে বিপণন করা হয়।

ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম) : উপমহাদেশে এ ধরণের মরিচকে সিমলা মরিচ বলা হয়। এ মরিচ সাধারণত আকরে বড় এবং পুরু। এ মরিচকে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সালাদেও ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এ মরিচ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় এবং এটি একটি উচ্চমূল্য সম্পন্ন শস্য।

১) টবে মরিচ চাষ
মরিচ চাষের জন্য দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত। এছাড়া সামান্য ক্ষারীয় মাটি ব্যবহার করা যেতে পারে। দোআঁশ মাটির সাথে গোবর সার ভালো করে মিশিয়ে টব ভর্তি করুন। টবের এই মাটিতে যথেষ্ট পানি দিন যাতে মাটি ভেজা ভেজা থাকে। এবং লক্ষ্য রাখুন মাটি যেন একেবারে শুকিয়ে না যায়। এবং আদ্র স্থানে রাখুন।

ছাদে অথবা বারান্দায় মরিচ চাষের ক্ষেত্রে মাটির অথবা প্লাস্টিকের টব ব্যবহার করা উত্তম। এছাড়াও পলিব্যাগ, টিনের কৌটা বা প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। মরিচ গাছের জন্য মাঝারী আকৃতির টব হলেই চলে।

১.১) মরিচের জাত বাছাই করা
আমাদের দেশে সাধারণত স্বাদ ও ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে মরিচকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় ঝাল ও মিষ্টি মরিচ। কিন্তু আমাদের দেশে সর্বত্রই ঝাল মরিচের চাষ হয় এবং এর ব্যবহারও বিস্তৃত। এছাড়া বেশ কিছু ভালো জাতের মরিচের মধ্যে আছে ধানি মরিচ, বালুঝুরি, ভিন্ডি, বারোমাসি ইত্যাদি।

১.২) মরিচ চাষ/রোপনের সঠিক সময়
সাধারণত মরিচ চাষের উপযুক্ত সময় হল মে-জুন মাস। এছাড়া শীতকালের শুরুতে অক্টোবর মাসেও মরিচের বীজ বপন করা যায়। এসময় বীজ বপন করলে মরিচের ভাল ফলন পাওয়া যায়।

১.৩) কিভাবে মরিচ বীজ বপন ও সঠিক নিয়মে পানি দিবেন
বীজ বপনের ক্ষেত্রে টবের অথবা উপযুক্ত পাত্রের মাটিতে শুকনা বীজ ছড়িয়ে দিন। কিছুদিন পরে দেখা যাবে বেশকিছু চারা গাছ গজিয়েছে। সেখান থেকে সরস বা শক্তিশালী চারা গুলো রেখে বাকি চারাগুলি উপড়ে ফেলুন। এরপর প্রত্যকেটি চারা কে আলাদা আলাদা করে টবে বা উপযুক্ত পাত্রে স্থানান্তরিত করুন। এছাড়াও বিভিন্ন নার্সারীতে আপনি ভাল মানের চারা পেতে পারেন। অথবা শুকনো মরিচের ভেতরে যে বীজ থাকে সেগুলোও বের করে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
মরিচ গাছের গোড়ায় দিনে একবার অবশ্যই পানি দেবেন। এবং সবসময় সঠিক নিয়মে পরিমাণমত পানি দিবেন।

১.৪) সঠিক নিয়মে মরিচ চাষাবাদ পদ্ধতি/কৌশল
পানি দিলে অনেক সময় গাছ হেলে যেতে পারে তাই গাছের গোড়ায় কোন কাঠি বেঁধে দিবেন। গাছে পানি দেবার সময়ে লক্ষ্য রাখুন পাতা যেন ভিজে না যায়। পাতা ভিজে গেলে রোগবালাই হবার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। পানি জমে গাছ মারা যেতে পারে তাই টবের থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখুন।

১.৫) মরিচ চাষে সারের পরিমাণ ও সার প্রয়োগ
বাসার তরিতরকারির ছাল, পাতা, খোসা ও ঘর ঝাড়ুর ফলে জমা ধুলাবালি, আবর্জনা জমা করে পাত্রটি ছাদে বা বারান্দায় রেখে সেটাকে পচিয়ে সার বানিয়ে মরিচ গাছে দিতে পারেন। এটা মরিচ গাছের জন্য খুবই উপকারী।

মরিচ চাষে পোকামাকড় দমন ও বালাইনাশক/কীটনাশক কিভাবে প্রয়োগ করবেন
মরিচের কচি চারার ডগা খাবার জন্য সমাগম হয় পিঁপড়ে এবং ছোট ছোট পাখির। এটা তাঁদের খুবই প্রিয় খাবার। তাই পিঁপড়ে থেকে বাঁচার জন্য টবের চারপাশে কীটনাশক চকের দাগ দিয়ে রাখতে পারেন অথবা পাউডার জাতীয় কীটনাশক দিতে পারেন। এবং পাখির হাত থেকে বাচার জন্য শক্ত নেট ব্যবহার করতে পারেন।
এছাড়া পানিতে কয়েক ফোটা তরল সাবান মিশিয়ে মরিচ গাছে স্প্রে করতে পারেন। অথবা পোকা মারা কীটনাশক ব্যবহার করুন।

১.৬) কিভাবে মরিচ গাছের বাগানের যত্ন ও পরিচর্যা করবেন
যখন মরিচের চারা বড় হয় সে সময়ে মাটিকে আর্দ্র রাখাটা খুবই জরুরি। যথেষ্ট আলোবাতাস ও পানির প্রয়োজন হয় মরিচ গাছের বৃদ্ধির জন্য। তাই এদেরকে ছাদে বারান্দায় অথবা জানালার পাশের রৌদ্রোজ্জ্বল স্থানটিতে রাখুন। যেন খুব বেশি রোদ না লাগে। এবং সকাল অথবা বিকালে মরিচ গাছের যত্ন নিন।
টবের গাছ যেহেতু কম মাটির মধ্যে বড় হয়ে উঠে তাই মরিচ যখন গাছ থেকে তুলবেন তখন খেয়াল রাখুন যাতে করে গাছে বেশি টান না পড়ে। তাহলে পরবর্তীতে আরও মরিচ পেতে পারেন।

মরিচের খাদ্য গুণাগুণ
মরিচে যথেষ্ট পুষ্টি উপাদান আছে। কাঁচা মরিচে অনেক প্রকার খাদ্য গুনাগুন বিদ্যমান। খাদ্য উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচামরিচে প্রোটিন ২.৯ গ্রাম, চর্বি ০.৬ গ্রাম, শর্করা ৬.১ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ১.০ গ্রাম, ভিটামিন-এ ৪৫৪ আইইউ, ভিটামিন-সি ১১১ মিলিগ্রাম বিদ্যমান।

২) মরিচের চাষ পদ্ধতি
চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি
জলবায়ু
মাটির প্রকৃতি

সাধারণত মরিচ রবি মৌসুমে বেশি চাষ করা হয়। তবে ভাদ্র মাসেও কিছু কিছু মরিচ চাষ করা হয়। যথেষ্ট সূর্যালোক পড়ে এবং বাতাস আছে এ ধরণের উঁচু এবং মুক্ত জমি চাষের জন্য উপযোগী। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য ভালো। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দো-আঁশ বা পলি দো-আঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য বেশি উপযোগী।

২.১) জাত
১. বাংলাদেশে অসংখ্য জাতের মরিচ চাষ হয়।
২. সাধারণভাবে এগুলোর বিশেষ কোন নাম নেই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এদের নামও আছে।
৩. খুবই ছোট আকারের একটি মরিচ রয়েছে যাকে ধানি মরিচ বলা হয়।
৪. কামরাঙ্গা মরিচ নামে এদেশে একটি জাত আছে, এটি অত্যন্ত ঝাল এবং উপবৃত্তাকার। কোন কোন জেলায় একে বোম্বাই মরিচ বলা হয়।

২.২) চারা রোপণ/বীজ বপন পদ্ধতি
১. শীত মৌসুমের জন্য ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমের জন্য ফাল্গুন-চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চারা তৈরির জন্য বীজ বপন করা হয়।
২. মরিচের চারা ৪-৫টি পাতা গজালে রোপণ করা যায়।
৩. মরিচের চারা সারিবদ্ধভাবে ৬০-৭৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করা হয়।
৪. একটি চারা থেকে আর একটি চারা ৬০-৭৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করা হয়।

২.৩) সার প্রয়োগ
কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে মরিচ চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশে-পাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পচা সার তৈরি করা সম্ভব।

২.৪) সেচ
১. শুকনা মৌসুমে মরিচে পানি সেচ খুবই উপকারী। শীত ও খরার সময় জমিতে ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে জমে।
২. পানির অভাব হলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
৩. আবহাওয়া ও মাটির অবস্থাভেদে সেচই মরিচের জন্য যথেষ্ট।

২.৫) চাষের সময় পরিচর্যা
১. জমিতে আগাছা থাকলে পোকামাকড়, রোগজীবাণু ও ইঁদুরের আক্রমণ বেশি হয়। তাই বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর একবার নিড়ানী দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
২. মাটিবাহিত রোগে মরিচ বেশি আক্রান্ত হয়। এজন্য একই জমিতে বছরে একবারের বেশি মরিচ চাষ করা ঠিক নয়।

২.৬) রোগবালাই
১. প্রজেনিয়া, লিটুরিয়া, কাপামোটাস কমপ্রেসাস এবং প্রস্টক্সেল মরিচের প্রধান ক্ষতিকারক কীট।
২. রোগের মধ্যে ডাই-হ্যাক অন্যতম।
৩. সষ্টরটও মরিচ গাছের ক্ষতি করে।

২.৭) প্রতিকার

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।

২.৮) ফসল সংগ্রহ

সাধারণত মরিচের চারা রোপনের ৬০ দিন পর মরিচ সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।

২.৯) উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ

প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমি থেকে প্রায় ১২ মণ মরিচ পাওয়া সম্ভব।

২.১০) বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
১. পাকা মরিচ ১৫ দিন পর পর সংগ্রহ করা যায়।
২. মরিচের গাছ নির্বাচন করে পরিপূর্ণ পাকা মরিচ সংগ্রহ করতে হবে।
৩. তারপর তা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে বীজ বের করে নিতে হবে।স
৪. বীজ শুকিয়ে আর্দ্রতা ৬-৮% করে নিয়ে বায়ুরোধী পাত্র বা পলেথিন প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে।

কাঁচা মরিচের উপকারিতা

কাঁচা মরিচে থাকা ডায়াটারি ফাইবার, সোডিয়াম, থিয়ামিন, রাইবোফ্লবিন, নিয়াসিন, ফলেট, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন এ, সি, কে, বি৬, পটাসিয়াম, কপার এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো উপাদান নানাভাবে শরীরের উপকারে লাগে থাকে।

হজম ক্ষমতার উন্নতি: কাঁচা মরিচ খাওয়া মাত্র শরীরে ভিটামিন সি-এর মাত্রা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি স্যালাইভার উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়, যে কারণে হজম ক্ষমতার এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে গ্যাস, অম্বল এবং বদহজমের মতো সমস্যা দূরে পালায় চোখের পলকে।

স্ট্রেস কমায় : কাঁচা মরিচ খাওয়া মাত্র শরীরে এন্ডোরফিন নামক একটি হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার প্রভাবে স্ট্রেসের প্রকোপ যেমন কমতে শুরু করে, তেমনি মন-মেজাজও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ফলে মানসিক অবসাদের মতো সমস্যার খপ্পরে পরার আশঙ্কা যায় কমে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : মরিচে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিন, যা দেহে প্রবেশ করা মাত্র রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই চাঙ্গা করে তোলে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে নানাবিধ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

সাইনাস প্রতিরোধে : মরিচে থাকা ক্যাপসিসিন মিউকাস মেমব্রেনের অন্দরে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঠাণ্ডা লাগার কারণে হওয়া নানবিধ শারীরিক সমস্যা যেমন কমে যায়, তেমনি সাইনাস ইনফেকশনের কষ্ট কমতেও সময় লাগে না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে : প্রতিদিন কাঁচা মরিচ খেলে হজম ক্ষমতা এত মাত্রায় বৃদ্ধি পায় যে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট সেলেরা এত মাত্রায় গলতে শুরু করে যে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে একেবারেই সময় লাগে না।

শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে: নিয়মিত কাঁচা মরিচ খাওয়া শুরু করলে ইনসুলিনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সুযোগই পায় না। ফলে ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে : কাঁচা মরিচের স্বাদ কেন ঝাল হয় জানা আছে? এর মধ্যে ক্যাপসিসিন নামক উপাদান এক্ষেত্রে নিজের খেল দেখিয়ে থাকে। এই উপাদানটি স্বাদ গ্রন্থিকে অ্যাকটিভ করে তোলার পাশাপাশি মস্তিষ্কের হাইপোথেলামাস অংশকে অতি মাত্রায় সচল করে তোলে। ফলে শরীরের তাপমাত্র এতটা কমে যায় যে গরমের খারাপ প্রভাব দেহের উপর পরার আশঙ্কা একেবারেই থাকে না।

ব্যথা কমে : কাঁচা মরিচে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান দেহে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখাতে শুরু করে যে কোনও ধরনের যন্ত্রণা কমতে সময়ই লাগে না। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতিতে এবং আলসারের মতো রোগকে দূরে রাখতেও কাঁচা মরিচ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি : কাঁচা মরিচে থাকা একাধিক উপাকির উপাদান রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ফেলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে ফাইব্রিনোলেটিক অ্যাকটিভিটিকে বাড়িয়ে দিয়ে মস্তিষ্কে যাতে ব্লাড ক্লট না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে মরিচ। ফলে স্ট্রোকের আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে: মরিচে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিন। এই দুটি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে বলিরেখা গায়েব হতে শুরু করে। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় চোখে পরার মতো। সেই সঙ্গে চুলের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে। এই দুটি উপাদান দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতেও সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র:
১) Perry, L. et al. 2007. Starch fossils and the domestication and dispersal of chili peppers (Capsicum spp. L.) in the Americas. Science 315: 986-988.

২) BBC News Online. 2007. Chillies heated ancient cuisine. Friday, 16 February. Available from: http://news.bbc.co.uk/2/hi/americas/6367299.stm. Accessed 16 February 2007.

৩) Bosland, P.W. 1996. Capsicums: Innovative uses of an ancient crop. p. 479-487. In: J. Janick (ed.), Progress in new crops. ASHS Press, Arlington, VA.

৪) Heiser Jr., C.B. 1976. Pp. 265-268 in N.W. Simmonds (ed.). Evolution of Crop Plants. London: Longman.
Eshbaugh, W.H. 1993. Pp. 132-139 in J. Janick and J.E. Si

৫) কালের কন্ঠ
৬) আমবালানিউজ
৭) http://wp.ekrishok.com
৮) https://www.pepeelika.com

আপনার মতমত দিন

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *